1. admin@dailybhorerbangladesh.com : admin : Shah Alam
শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

দৌলতপুরে রহিম হত‍্যার মুল পরিকল্পনা কারী ও হত‍্যাকারীসহ ৩আসামী গ্রেফতারের পর আলামত উদ্ধার করেছে- পিবিআই

Reporter Name
  • আপডেট টাইম শনিবার, ১০ জুন, ২০২৩
  • ১৫৩ ভিউ টাইম

 

মো:শাহ আলমদৌলতপুর থেকে:

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কাকনা গ্রামের রহিম (৪২) নামের  এক ব‍্যাক্তি নিখোঁজের ২দিন পর লাশ উদ্ধার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। উদ্ধারের পর মুল পরিকল্পনা কারী ও হত‍্যাকারী সহ ৩জনকে গ্রেফতার করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পিবিআই ।

 

আব্দুর রহিমের লাশ গত বুধবার ৮ই জুন সন্ধ্যায় কাকনা হাইস্কুলের পিছনে বাঁশ ঝাড়ের পাশে খাল  হতে রহিম মিয়া  লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

পুলিশ সুত্রে ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে   জানাগেছে-গত সোমবার ৫জুন দৌলতপুর উপজেলার কাকনা গ্রামের খবির উদ্দিনের ছোট ছেলে আব্দুর  রহিম মিয়া( ৪২) বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যায়। রাতে ৮টার দিকে না ফিরে আসলে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গা খোজ খবর নেয়। পরের দিনও বাড়িতে না ফিরলে অনেক খুজাখুজি করে  আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে।পরে না পেয়ে বুধবার ৭জুন সকালে দৌলতপুর থানায় একটি নিখোঁজের  ডায়রী করেন।দৌলতপুর থানার জিডি নং ৪৬৬, তারিখ:৭/৬/২০২৩।

পরে ৭তারিখ বিকাল ৫টার দিকে আশে পাশের বাড়িতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে  এলাকায়  লোকজন অনেক খুজাখুজি করে কাকনা স্কুলের পাশে খালের পাড় বাঁশ ঝাড় থেকে আব্দুর রহিমের  লাশ দেখতে পেলে দৌলতপুর থানা পুলিশকে ফোনের মাধ্যমে অবগত করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রহিমের লাশ  উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করে ।

 

পরে বিষয়টি মানিকগঞ্জ পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে সারারাত  অনুসন্ধান করে ৮জুন  বৃহস্পতিবার সকালে ৩ জন আসামি সন্দেহ জনকভাবে আটক করে। আটককৃতরা হলেন-কাকনা গ্রামের মালেক মিয়ার ছেলে আসিক হোসেন মনির (২৫) ও একই গ্রামের নুরু মোহাম্মদ এর ছেলে শাহিনুর ইসলাম  সোহন (৪০)। এবং মুল পরিকল্পনাকারী একই গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে মো:বিল্লাল (৩৮)। আটক করে জিজ্ঞাসা বাদের জন্যে   আসামীদের  এলাকায় এনে এলাকার শত শত মানুষের সামনে থেকে হত‍্যার আলামত বিষের বোতল, ঘুমের ঔষধ মেশানোর  বিয়ারের খালী বোতল  উদ্ধার করে। এবং  নিহত রহিমের মোবাইল ফোন পাশের খাল থেকে ফায়ার সার্ভসের একটি ডুবুরি দল চেষ্টা করে।পরে জায়গাটি নোংরা ও আব‍র্জনা যুক্ত হওয়ায় ১৬ঘন্টা সেলো মেশিন দ্ধারা পানি শুকানোর পর পরের দিন ৯জুন উদ্ধার করে পিবিআই ও ফায়ার সার্ভিস।

 

যে কারণে হত‍্যা করা হলো রহিমকে :পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে আব্দুর রহিম একজন সহজ ও ভালো লোক ছিলেন।তিনি একটু সহজ সরল হওয়ায় এলাকার বাজারে আগত লোকের ও দোকানন্দারদের ফরমাইস শুনতেন।এতে তাকে কিছু টাকা পয়সা দেওয়া হতো সেই টাকা বাক প্রতিবন্ধি স্ত্রী ও ২টি ছেলে ও একটি মেয়ে নিয়ে কোন মত চলতো।আবার ঈদের সময় এলাকার ধনীদের ও জনপ্রতিদের কাছ থেকে কিছু সহযোগিতা এনে এলাকার মানুষকে দিতেন।এতে তাকে কিছু টাকা দেওয়া হতো।এভাবে তিনি বেশ টাকা জমিয়েছিলেন।এই টাকা গুলো বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে লাভে খাটাতেন এবং একই এলাকার চা দোকানী বেশি পরিমানে টাকা দেন।এই টাকা দিয়ে বিল্লালের ২য় স্ত্রী নুপুর কে সৌদি আরব পাঠান। টাকাটি দীর্ঘদিন হওয়ায় বিল্লালকে চাপ দিতে থাকেন আব্দুর রহিম।রহিমের স্ত্রী বাকপ্রতিপ্রতিব্ধি হওয়ায় সেই সুযোগ নিতে বিল্লালের নিকট আত্মীয় পেশাদার খুনি শাহিনুর ইসলাম সোহন ও আসিস হোসেন  মনির কে বলেন টাকার বিনিময়ে আব্দুর রহিমকে হত‍্যা করতে। বিল্লালের কথায় রাজি হয়ে ওরা দুই জন প্রথমে আব্দুর রহিমকে বিয়ারের সাথে ঘুমের বড়ি খাওয়ায়ে অচেতন করে ফেলে পরে তার নাক ধরে এবং গলা টিপে হত‍্যা করে।পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে রহিমের গালে বিশ ঢেলে কাকনা হাইস্কুলের পিছনে বাঁশ ঝারের সাথে খালের মধ্যে ফেলে রেখে চলে যায়। এবং তার সাথে থাকা মোবাইল ও বিষের বোতল পাশে অন‍্য একটি খালে পানিতে ফেলে চলে যায় এবং বিল্লালকে মৃত্যুর কথা ফোনে নিশ্চিত করে।পরের দিন হত‍্যা কারী সোহন ও মনির মুলপরিকল্পনা কারী বিল্লালের কাছে টাকার জন্যে যায়।বিল্লাল ওদেরকে ১০ হাজার টাকা দেয়।বাকী টাকা পরে দিবে বলে জানায়।

 

 

এই বিষয়ে অত্র মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই(নিঃ) মোঃ আমিনুল ইসলাম  জানান পিবিআই প্রধান এডিশনাল আইজিপি  বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম (বার), পিপিএম স‍্যারের সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায়  পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  এম, কে, এইচ, জাহাঙ্গীর হোসেন,পিপিএম স‍্যারের সার্বিক সহযোগিতা ও নির্দেশনায় মামলাটি তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবো।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবোর

Categories